নির্বাচিত হাদিস ও মূল্যবান বাণী
আল্লাহর অধিকার: বান্দার ওপর আল্লাহর অধিকার হলো, তারা কেবল তাঁরই আনুগত্য ও দাসত্ব করবে এবং তাঁর সাথে কোনো অংশীদার সাব্যস্ত করবে না। [সহীহ বুখারী]
দানশীলতা: আমার পরে সবচেয়ে বড় দানশীল সে, যে কোনো বিষয়ে জ্ঞান লাভ করলো এবং তা ছড়িয়ে দিল। [বায়হাকী]
ঈমানের পূর্ণতা: ঈমানের পূর্ণতা লাভকারী মুমিন তারা, যাদের নৈতিক চরিত্র সর্বোত্তম। [মিশকাত]
উত্তম মানুষ: তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানুষ তারা, যাদের আচার-ব্যবহার সবচেয়ে ভালো। [সহীহ বুখারী]
জ্ঞানের মূল: জ্ঞানের মূল হলো আল্লাহকে ভয় করা। অর্থাৎ যে আল্লাহকে ভয় করে, সে-ই সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। [মিশকাত]
আল্লাহর ভয়: সে ব্যক্তি দোজখে প্রবেশ করবে না, যে আল্লাহর ভয়ে কাঁদে। [তিরমিযী]
শ্রেষ্ঠ আমল: শ্রেষ্ঠ আমল হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা। [আবু দাউদ]
আল্লাহর ওপর ভরসা: যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। [ইবনে মাজাহ]
জ্ঞানীদের মর্যাদা: জ্ঞানীরা নবীদের উত্তরাধিকারী। [তিরমিযী]
ভালো ও মন্দ লোক: সবচেয়ে মন্দ লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা মন্দ তারা, আর সবচেয়ে ভালো লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা ভালো তারা। [দারমী]
বিনয়: যে আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনয়ী হয়, আল্লাহ তার মর্যাদা বাড়িয়ে দেন। [মিশকাত]
আনুগত্যের সীমা: কারো এমন হুকুম মানা যাবে না, যাতে আল্লাহর হুকুম অমান্য করতে হয়। [সহীহ মুসলিম]
দান: দান হচ্ছে একটি প্রমাণ। [সহীহ মুসলিম]
দানের সওয়াব: যে আল্লাহর পথে একটি দান করে, আল্লাহ তার জন্য সাতশ গুণ সওয়াব লিখে দেন। [তিরমিযী]
উত্তম কথা: যে আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন উত্তম কথা বলে। [সহীহ বুখারী]
ধন ও স্বাস্থ্য: যে আল্লাহকে ভয় করে, তার ধনী হওয়াতে দোষ নেই। তবে তার জন্য অর্থের প্রাচুর্যের চেয়ে শারীরিক সুস্থতা উত্তম। [মিশকাত]
মনের প্রফুল্লতা: মনের প্রফুল্লতা আল্লাহর একটি অনুগ্রহ। [মিশকাত]
ভালো কাজ: প্রতিটি ভালো কাজ একটি দান। [সহীহ বুখারী]
পরিবারের প্রতি আচরণ: তোমাদের মাঝে উত্তম লোক সে, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম। [ইবনে মাজাহ]
পরোপকার: যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। [সহীহ বুখারী]
মুমিনের বৈশিষ্ট্য: নিজের জন্য যা পছন্দ করো, অন্যের জন্যও তাই পছন্দ করবে; তবেই হতে পারবে মুমিন। [সহীহ মুসলিম]
আল্লাহর স্মরণ: যে তার প্রভুকে স্মরণ করে আর যে করে না, তাদের উদাহরণ হলো জীবিত ও মৃতের মতো। [সহীহ মুসলিম]
রাগ নিয়ন্ত্রণ: রাগে উত্তেজিত হলে চুপ করে থাকো। [আদাবুল মুফরাদ]
অযু: তোমাদের কেউ যখন উত্তেজিত হবে, সে যেন অযু করে নেয়। [আবু দাউদ]
সত্যবাদিতা: সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত হয়। [ইবনে হিব্বান]
কৃপণতা: সবচেয়ে কৃপণ লোক সে, যে সালাম আদান-প্রদানে কৃপণতা করে। [তিবরানী]
দয়া: যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। [সহীহ বুখারী]
শরীরের অধিকার: তোমার ওপর তোমার শরীরের অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ শরীর সুস্থ রাখা ও বিশ্রাম নেওয়া। [সহীহ বুখারী]
প্রতিবেশীর হক: সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। [বায়হাকী]
মনের পরিচ্ছন্নতা: মনের মধ্যে লোহার মতোই মরিচা পড়ে; আর তা দূর করার উপায় হলো ক্ষমা প্রার্থনা করা। [বায়হাকী]
অধীনস্থদের সাথে আচরণ: অধীনস্থদের সাথে নিকৃষ্ট আচরণকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। [আহমদ]
সন্তানের শিক্ষা: তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা দান করো এবং তাদের সুন্দর আচার-ব্যবহার শেখাও। [ইবনে হিব্বান]
প্রকৃত শক্তিশালী: শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [সহীহ মুসলিম]
দোষ গোপন রাখা: যে ব্যক্তি একজন মুসলমানের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন। [সহীহ মুসলিম]
হারাম থেকে বাঁচা: হারাম থেকে বেঁচে থাকো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন। [তিরমিযী]
মতভেদ বর্জন: মতভেদ করো না। তোমাদের পূর্বে যারা মতভেদ করেছিল, তারা ধ্বংস হয়েছে। [সহীহ বুখারী]
তাওবা: বান্দা যখন অপরাধ স্বীকার করে এবং তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। তাওবা মানে ভুল স্বীকার করে অনুশোচনা করা এবং ভবিষ্যতে তা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া। [সহীহ বুখারী]
আবু যর (রা)-কে দেওয়া প্রিয় নবীর উপদেশমালা
আবু যর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রাসূলের কাছে উপদেশ চাইলে নবীজি (সা) বললেন:
আমি তোমাকে আল্লাহকে ভয় করার উপদেশ দিচ্ছি, কারণ এটাই তোমার সমস্ত কাজকে সৌন্দর্য দান করবে।
কুরআন পাঠ এবং আল্লাহর স্মরণকে নিজের কর্তব্য বানিয়ে নাও; এতে আকাশে তোমায় নিয়ে আলোচনা হবে আর পৃথিবীতে তা তোমার পথের আলো হবে।
বেশি সময় নীরব থাকবে এবং কম কথা বলবে; এটি শয়তানকে তাড়াবার হাতিয়ার এবং দ্বীনের কাজে সহায়ক হবে।
তিক্ত হলেও সত্য কথা বলবে।
ইসলামের জন্য প্রচেষ্টা (জিহাদ) করবে, কারণ এটিই মুসলমানদের বৈরাগ্য।
দরিদ্রদের ভালোবাসবে এবং তাদের সাথে চলাফেরা করবে।
নিজের দোষ-ত্রুটির দিকে তাকাও; অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো থেকে বিরত থাকো।
পরিশেষে নবীজি (সা) বললেন: "আবু যর! কর্মকৌশল ও কর্মপ্রচেষ্টার চাইতে বড় বুদ্ধিমত্তা আর নেই, নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকার চেয়ে বড় বীরত্ব নেই, আর সুন্দর ব্যবহারের চাইতে বড় কোনো ভদ্রতা নেই।" [ইবনে হিব্বান]
সঠিক পথের নয়টি নির্দেশ
আমার প্রভু আমাকে নয়টি নির্দেশ দিয়েছেন:
১. গোপনে ও প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করা।
২. সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি—উভয় অবস্থাতেই ন্যায় কথা বলা।
৩. দারিদ্র্য ও প্রাচুর্য—উভয় অবস্থাতেই মধ্যপন্থা অবলম্বন করা।
৪. যে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখা।
৫. যে বঞ্চিত করে, তাকে দান করা।
৬. যে অবিচার করে, তাকে ক্ষমা করে দেওয়া।
৭. নীরবতা যেন চিন্তা-গবেষণায় কাটে।
৮. কথাবার্তা যেন উপদেশমূলক হয়।
৯. প্রতিটি দৃষ্টি যেন হয় শিক্ষা গ্রহণকারী।
এছাড়াও দুটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হলো: ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজে নিষেধ করা।